(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 29, 2013

কেন্দ্রীয়বাহিনীই চায় কমিশন পুলিসের রিপোর্ট হাতে নিয়েই রাজ্যকে চিঠি


GANASHAKTI

কেন্দ্রীয়বাহিনীই চায় কমিশন পুলিসের রিপোর্ট হাতে নিয়েই রাজ্যকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৮শে মার্চ— কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়েই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন। নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে ফের রাজ্য সরকারকে এই মর্মে চিঠি পাঠালো রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবারই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের চিঠি পৌঁছেছে রাজ্য সরকারের কাছে। মহাকরণে চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। দুই পক্ষের বেনজির এই চিঠি চালাচালির জেরে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে দিনক্ষণের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। 

নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে গত মঙ্গলবার দু’দফার ভোটে জেলা পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছিলো রাজ্য সরকার। চিঠিতে কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর কথা এড়িয়ে গিয়েছিলো রাজ্য সরকার। সেই চিঠির উত্তর এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে পাঠানো হয়েছে। চিঠির বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে কোনো কথা সাংবাদিকদের বলতে চাননি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব তাপস রায়। চিঠির বিষয় নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও এদিন তাপস রায় সাংবাদিকদের জানান,‘‘ আমাদের কাছে ক’দফার ভোট এখন বড় কথা নয়। পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তাই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার।’’ নিরাপত্তার বিষয় যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাছে অগ্রাধিকার সেখানেই আসলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের এখনও মূল সঙ্ঘাত। 

নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট করা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড়। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অবান্তর’ ও ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উড়িয়ে সঙ্ঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। যার পরিণতি এই প্রথম রাজ্য পঞ্চায়েত ভোট করা নিয়েই এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ১১পাতার চিঠি এসেছিলো রাজ্য সরকারের কাছে। জেলা পুনর্বিন্যাস করে সেই চিঠির উত্তর গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার পাঠিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশনকে। জেলা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও কেন্দ্রীয়বাহিনী নিয়ে জট যে কাটেনি এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ফের রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানোতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এদিন নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে,‘‘কেন্দ্রীয়বাহিনী নিয়ে আমাদের নড়চড় হওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।’’ এই অবস্থানে নির্বাচন কমিশন যে অনড় আছে সেকথাও এদিন জোরের সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিন মহাকরণে নির্বাচন কমিশনের চিঠি প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি সাংবাদিকদের জানান,‘‘চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে নতুনত্ব কিছু মনে হলো না।’’ চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকরা পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চাইলে তাঁর জবাব ছিলো,‘‘ বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই বলা যাবে না। চিঠি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, আইন দপ্তরের সচিব, পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারপরই বলা যাবে।’’ চিঠিতে কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর উত্তর ছিলো, ‘‘দেখলাম না। ওটা আগের চিঠিতেই বলা ছিলো। তবে আমদের যা অবস্থান ছিলো তাই আছে।’’

রাজ্য সরকারের অবস্থানের অর্থ, পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে রাজ্য পুলিসের সশস্ত্রবাহিনী। গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানোর আগে মহাকরণে সুব্রত মুখার্জি বলেছিলেন,‘‘আমাদের আমলে কেন্দ্রীয়বাহিনী ছাড়াই ১১টি পৌরসভার ভোট হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাতে সশস্ত্রবাহিনী দিয়ে ভোট করা যায় তার ব্যবস্থা করবো। প্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকে পুলিস আনা হবে।’’ কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধের জায়গা এখানেই। 

এদিনও কেন্দ্রীয়বাহিনী প্রসঙ্গে কমিশনের সচিব জানান,‘‘এবার আমরা ৮০০কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী চেয়েছি। তারমধ্যে ৩০০কোম্পানি চেয়েছি মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন। আমরা কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন করার কথাই সরকারকে বলেছি।’’ রাজ্য সরকারকে এদিনে পাঠানো চিঠিতে সেই কথাই উল্লেখ করা হয়েছে? এই প্রশ্নে রাজ্য কমিশন সচিব জানান,‘‘ চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। রাজ্য সরকারের চিঠি পেয়ে যেটা জানানো দরকার সেটাই জানিয়েছি। এবার আমরা চিঠি দিয়ে জানালাম। জানতে চাইলাম না।’’ নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর এবারের চিঠিতে কেন কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে কমিশন ভোট করতে চায় সেকথাই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের ৮০০কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী চাওয়ার প্রসঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ,‘‘আমরা জেলাশাসক, পুলিস সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আলোচনা করেছি। তার ভিত্তিতেই কমিশন কেন্দ্রীয়বাহিনী চেয়েছে।’’ 

অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটপর্ব পরিচলনা করা যেমন কমিশনের দায়িত্ব। তেমনই রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বামফ্রন্টসহ বিরোধী দল। মঙ্গলবারই সি পি আই (এম) নেতা রবীন দেবের নেতৃত্বে রাজ্য বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করে অবাধ ও শান্তপূর্ণ ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে এসেছিলেন। কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বর্তমানে রাজ্যে কীভাবে বামপন্থী কর্মী, সমর্থকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, হুমকি দেওয়া হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চায়েত ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি জানায় বামফ্রন্ট। নির্বাচন কমিশনেরও লক্ষ্য, পঞ্চায়েত ভোটকে শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া। এদিন সেই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে। সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বেলা ১টা নাগাদ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে আসেন কমিশনার। তারপর দফায়, দফায় বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বৈঠক করেন মীরা পাণ্ডে। বিকালে ফের তিনি বেরিয়ে যান। সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফের রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়ার কথা জানান কমিশন সচিব তাপস রায়।

কিন্তু এখন প্রশ্ন, বহুচর্চিত সেই পঞ্চায়েত ভোট কবে হবে? 

রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট এখন আর ক’দফায় হবে তা নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েই সঙ্ঘাত কিছুমাত্র কমেনি। রাজ্য সরকারের ধারণা ছিলো, এদিন হয়তো তাঁদের দাবিমতো নির্বাচন কমিশন ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেবে। সে পথে হাঁটা তো দূরের কথা, কেন্দ্রীয়বাহিনী নিয়ে অনড় নির্বাচন কমিশন ফের এদিন চিঠি দিল রাজ্য সরকারকে। কমিশন সচিব জানান,‘‘ চিঠি পাঠালে তার একটা উত্তর পাওয়ার আশা থাকেই।’’

সেই উত্তর রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কবে পাওয়া যাবে?

পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথায়, চিঠি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যসচিব সহ সচিব পর্যায়ের বৈঠক করবেন। তারপর চিঠির উত্তর দেওয়ার কথা। সব মিলিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের পূর্ব ঘোষিত দিনক্ষণ এখন অনিশ্চয়তায়।

No comments:

Post a Comment