(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 27, 2013

কমিশনের কাছে সুষ্ঠু, অবাধ ভোটের দাবি বামফ্রন্টের


কমিশনের কাছে সুষ্ঠু, অবাধ ভোটের দাবি বামফ্রন্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৫শে মার্চ — আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে সাড়ে চার কোটি ভোটার যাতে অবাধ, সুষ্ঠ এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন তার দাবি জানালো বামফ্রন্ট। মঙ্গলবার সি পি আই (এম) নেতা রবীন দেবের নেতৃত্বে বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধিদল রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করেন। নেতৃবৃন্দ এদিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করে আলোচনা করেন এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ জানান, ইতোমধ্যেই রাজ্যে ৮৮ জন খুন হয়ে গেছেন বিভিন্ন ঘটনায়। পুলিস খুন হচ্ছে। কাউন্সিলরের নামে মানুষ খুনের অভিযোগ উঠেছে। কৃষক, শ্রমিক মিলিয়ে ৮৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেছে যে কলেজে কলেজে নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিতে হয়েছে সরকারকে। এর বাইরে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে দুর্বৃত্তায়ন। বামপন্থী কর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা জন্মেঞ্জয় ওঝা, তাঁর নামেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে যাঁরা সার্টিফিকেট নিচ্ছেন তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে এমন একটা নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যেখানে ৫৭,০১২টি বুথ এবং প্রায় ৫৮ হাজার আসন রয়েছে। কমিশন যেদিন বিজ্ঞপ্তি জারি করবে তারপর থেকে রাজ্যে নির্বাচনী বিধি চালু হয়ে যাবে। তখন থেকে নির্বাচনকে ঘিরে গোটা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। ফলে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব এদিন মীরা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

রবীন দেব ছাড়াও বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সি পি আই (এম) নেতা সুখেন্দু পানিগ্রাহী, সি পি আই’র ধীরেন দাশগুপ্ত এবং অশোক রায়, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা হাফিজ আলি সাইরানি ও সমাজবাদী পার্টির জন্মেঞ্জয় ওঝা। নেতৃবৃন্দ এদিন প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। পরে রবীন দেব বলেন, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি আমরা আরো কয়েকটি বিষয় এদিন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। যেগুলি সম্পর্কে কমিশনের নির্দেশ এবং মনোভাব এখনো স্পষ্ট নয়। কারা কারা এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন? আমরা আবেদন রেখেছি বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে। আশা কর্মী, এম এস কে, এস এস কে’তে যাঁরা আছেন তাঁরা কী প্রার্থী হতে পারবেন? এই প্রশ্নের নানারকম উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ১৫ই মার্চের মধ্যে ভোটার তালিকা সর্বত্র পৌঁছে যাবার কথা ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে তালিকা পৌঁছায়নি। এছাড়া ভোটের সময় প্রচার, মাইকের ব্যবহার নিয়েও এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। রবীন দেব বলেন, বিধানসভা উপনির্বাচনের সময় দেখা গেছে মাইক বাজানোর সময়সীমা বিরোধী দলগুলির জন্য একরকম আবার সরকারপক্ষের জন্য আর একরকম। নিয়মটা যেন সকলের জন্য সমান হয়, এই দাবিই করা হয়েছে। বামফ্রন্ট প্রতিনিধিদলের বক্তব্য, রাজনৈতিক সংঘর্ষ যা হচ্ছে বিশেষ করে তৃণমূল বনাম তৃণমূল এতেও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধের অভাব হচ্ছে। নিরাপত্তার পরিবেশ নির্বাচনের আগে ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া রাজ্যে ৩২৯টি ব্লকেই নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারী কর্মচারীদের ভোটদান, প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নিরাপত্তাসহ স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বেশ কিছু বিষয় উঠে আসে এদিনের আলোচনায়।

রবীন দেব বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচের ঊর্ধ্বসীমা আমরা জানতে চেয়েছিলাম। উত্তরে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন আইনে এবিষয়টি সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের দাবি করা হয়েছিল বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে। মীরা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এখন যে আইন রয়েছে সেখানে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের কোনো সুযোগ নেই। এরজন্য আইন সংশোধন করতে হবে।

রবীন দেব বলেন, মুকুল রায় এখন আইনের কথা বলছেন! অথচ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কত ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কত চক্রান্ত হয়েছে তার সাক্ষী রাজ্যবাসী। ২০০৮ সালে মে মাসে নির্বাচনের আগে এখানেই সর্বদলীয় বৈঠকগুলো হতো। মুকুল রায় আসতেন। ৬ই মে তিনি কমিশনের কাছে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট চান। পেয়ে যান। ৮ই মে তিনি কমিশনকে একটি চিঠি দিয়ে বলেন ‘স্বজন’ নামে একটি সংস্থা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নন্দীগ্রামে যাবে অবজার্ভার হিসাবে। বলা হয় যোগেন চৌধুরী, শুভাপ্রসন্ন, অপর্ণা সেন, শাঁওলি মিত্র, শিপ্রা ভট্টাচার্য, সমীর আইচ, বোলার গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, মনীশ মিত্র, ব্রাত্য বসু, অর্পিতা ঘোষ এবং আরো ২ জন ১০ই মে নন্দীগ্রামে যাবেন। ফিরবেন তাঁরা ১১ই মে। কমিশন সেই সময় তাঁদের যাবার অনুমতিও দিয়ে দিয়েছিল। পরে তাঁরা নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও ফিরে আসেন। ‘স্বজন’ যাঁরা সেদিন নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা এখন কে কোন অবস্থানে আছেন জানি না। সেদিন তাঁরা নিরপেক্ষতার দাবি করেছিলেন। আজ তাঁদের অনেকে পুলিস খুন, অনাহারে মৃত্যু, নারীর সম্মানহানির ঘটনায় নীরব।


No comments:

Post a Comment