(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 27, 2013

পিছু হটলেও কমিশনকেগাল পাড়লেন সুব্রত


GANASHAKTI

পিছু হটলেও কমিশনকেগাল পাড়লেন সুব্রত

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৬শে মার্চ— কমিশনের চাপের মুখে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়সূচীতে জেলার বিন্যাস বদলে বাধ্য হলেও নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ্যেই আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। কমিশনের সোমবার পাঠানো চিঠি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সাংবিধানিক সংস্থার পদক্ষেপকে ‘স্কুল বয়ের মতো’ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও এদিন আক্রমণ করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। তবে তাঁর দুপুরের ঝাঁঝ বিকেলের পরে স্তিমিত হয় সম্ভবত রাজভবনে মুখ্যসচিবকে তলব করার পরে। বিরোধ বজায় রাখবে বলে ইঙ্গিত অবশ্য দিয়েই রাখলো রাজ্য সরকার। 

নির্বাচন কমিশনকে যে ভাষায় রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে তাতে বিস্মিত সব মহল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের চিঠি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কার্যত ঝগড়া করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। বললেন, কমিশনের চিঠি ‘স্কুল বয়ের’ মতো। অবান্তর, অবাস্তব। সোমবারের পাঠানো কমিশনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিত নিয়েই মঙ্গলবার সারাদিন টানাপড়েনের মধ্যে ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। এদিন দফায় দফায় সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দু’দফা বৈঠক করেছেন। এই সব বৈঠকের পর মুখার্জি বলেন, আমরা কমিশনের চিঠির উত্তর দিচ্ছি। খসড়া তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার অথবা বৃহস্পতিবার চিঠির উত্তর চলে যাবে। মহাকরণে সুব্রত মুখার্জি যখন কমিশনের মর্যাদাহানি করছেন, তখনই খবর আসে কমিশনার মীরা পান্ডে রাজভবনে রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে এখবর পান পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এ খবরে আরও উত্তেজিত হয়ে যান তিনি। বেশ রেগেই মুখার্জি বলেন, শুধু রাজ্যপাল কেন কালকে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও উনি দেখা করতে পারেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখার্জি বলেন, কমিশন যে ১১ পাতার চিঠি দিয়েছে তার মধ্যে সাড়ে দশ পাতা অবান্তর। স্কুল কলেজের নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেছেন। এসব দিয়ে আইনশৃঙ্খলার মাপকাঠি হয় না। দেশের মধ্যে আমাদের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা অনেক ভালো। কলেজ নির্বাচন নিয়ে এমন সব সময়ই হয়ে থাকে। কমিশন সব অবাস্তব কথা বলছে।

পঞ্চয়েতমন্ত্রী বলেন, এমন চিঠি দেওয়ার পিছনে কমিশনের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই অন্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোন মন্তব্য তিনি করতে চাননি। তিনি বলেন রাজ্য সরকার দু’দফায় ভোট চায় । এখান থেকে সরছে না সরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, আমরা অন্য রাজ্য থেকে পুলিস আনতে পারি। তবে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন জেলা বিভাজন নিয়ে আমরা একটু আলোচনা করে নেবো। এই আলোচনার পর দ্বিতীয়বারের জন্য সাংবাদিক বৈঠকে মুখার্জি বলেন, আমরা দ্বিতীয় দফায় উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলায় ভোট চাইছি। তবে এটাই ফাইনাল নয়। পরিবর্তন হতে পারে। এরপরও পরিবর্তন হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলা রাখার প্রস্তাব রেখেছে সরকার। অর্থাৎ প্রথম দফায় দক্ষিণবঙ্গের ১১টি জেলায় ভোটের প্রস্তাব রাখা হলো। 

এদিন পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছি। মুখ্যসচিব, পঞ্চায়েত সচিব কমিশনের সঙ্গে বহু বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত ভোট করতে চেয়েছিল গত জানুয়ারি মাসে। সেই সময় থেকেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের আলোচনা শুরু। শুরুতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন বলেছিল পঞ্চায়েত ভোট যথাসময়েই হবে। সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল এক দফায় রাজ্য পুলিস নিয়েই ভোট হবে। কমিশন বলছে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কয়েক দফায় ভোট গ্রহণ হবে

No comments:

Post a Comment