(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 27, 2013

সঞ্চয়ের ফাঁদে


সঞ্চয়ের ফাঁদে

কেন্দ্রীয় সরকার কি চাইছে সারা দেশে চিটফান্ডগুলির ব্যবসা আরো ফুলে ফেঁপে উঠুক? কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রক প্রকাশ্যে চিটফান্ডগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি চিটফান্ডগুলিকেই সাহায্য করছে। ডাকঘরে স্বল্পসঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অধিকাংশ সঞ্চয় প্রকল্পে ০.১০ শতাংশ হারে কমানো হয়েছে সুদের হার। ১লা এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। প্রবীণ নাগরিকদের সঞ্চয় প্রকল্পেও সুদের হার কমেছে। আমাদের দেশের মানুষের সঞ্চয়ের বড় ভরসা হল ডাকঘর। বিশেষত গ্রামের গরিব মানুষ ডাকঘরে সঞ্চয় এবং তার সুদ থেকে আয়ের ওপরই নির্ভর করে থাকেন। দেশের ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ডাকঘরের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায়। ফলে এই সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে দেশের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে। কেন্দ্রীয় সরকার উদারনীতির পথ ধরে ভরতুকি কমানোর কৌশল নিয়ে চলেছে। অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ঘোষণা করেছেন, কোষাগারীয় ঘাটতি কমানো তার একমাত্র লক্ষ্য। সেই ঘাটতি কমাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বিষয়েই তিনি ভাগ বসাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ছাঁটার এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আরও একটি কারণ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। বড় বিনিয়োগকারীরা যাতে কম সুদে ঋণ পেতে পারে তার জন্যই পিছনের দিক ‍‌দিয়ে দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার খুবই সুকৌশলে স্বল্পসঞ্চয়ে সুদের হার নির্ধারণ বাজারের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। 

শ্যামলা গোপীনাথের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ হলো, বাজারের হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্বল্পসঞ্চয়ের সুদের হার নির্ধারিত হওয়া উচিত। এই কমিটির সুপারিশ অনুসারে গত বছরে পি পি এফ প্রকল্পে সুদের হার বাড়ানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই এবার সুদের হার কমানো হলো। যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যন মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর মতে দু’বছর আগের তুলনায় মূল্য বৃদ্ধির হার কম। ফলে প্রকৃত অর্থে নাকি আমানতকারীদের সুদের হার কমছে না। সাধারণ মানুষ তাদের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছেন দ্রুত হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। গ্রামীণ ভারতে এই সঙ্কট আরো তীব্র। আমাদের রাজ্যেই বোঝা যাচ্ছে গ্রামবাংলায় সঙ্কট বাড়ছে। কৃষকরা তাদের ফসলের দাম পাচ্ছেন না। আলু বিক্রি করতে না পেরে পুড়িয়ে দিতে হচ্ছে। অভাবী বিক্রি এবং ঋণের চাপে অনেক কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে মানুষের প্রকৃত আয় কমেনি। ফলে স্বল্পসঞ্চয়ের সুদের হার কমানোর যুক্তি আছে বলে কেন্দ্র মনে করছে। অপরদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নিয়মকানুন ভেঙে আর্থিক সংস্থা তথা চিটফান্ডগুলির ব্যবসা সারা দেশে রমরমিয়ে উঠেছে। আমাদের রাজ্যেও এই চিটফান্ডগুলি বেশ তৎপর। এইসব সংস্থার এজেন্টরা ১৬ থেকে ৩৩ শতাংশ হারে কমিশন নিয়ে সঞ্চয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে। এইসব সংস্থার সুদের হার ডাকঘরের থেকে অনেক বেশি। শুধুমাত্র সুদসহ টাকা ফেরত নয় জমি, ফ্ল্যাট অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ারও প্রলোভন দেখানো হয় এইসব স্কিমের মাধ্যমে। চিটফান্ডগুলি বেশি সুদে দৈনিক টাকা রাখার লোভ দেখাচ্ছে গরিব মানুষকে। পশ্চিমবঙ্গে এক বছরে চিটফান্ডের সংগ্রহ ১৫০০০ কোটি টাকার বেশি। ফলে গ্রামের মানুষ চিটফান্ডে টাকা জমার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন। এই অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। বড় সংস্থাগুলির সঙ্গে ব্যাঙের ছাতার মতো ছোট সংস্থাগুলিও এই সঞ্চয়ের নামে প্রতারণা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সুদ কমানোর এই সিদ্ধান্ত মানুষকে অর্থ জমানোর আগ্রহ কমাবে। চিটফান্ডের দিকে এগিয়ে যেতে মানুষকে উৎসাহ জোগাবে।

No comments:

Post a Comment