(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 29, 2013

নাকাশীপাড়ায় শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ধৃত তৃণমূল নেতার পুত্র|


GANASHAKTI

নাকাশীপাড়ায় শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ধৃত তৃণমূল নেতার পুত্র|

নিজস্ব সংবাদদাতা

কৃষ্ণনগর, ২৮শে মার্চ — বুধবার বিকেলে নাকাশীপাড়া থানার সোলী গ্রামের সাড়ে ৬ বছরের শিশু কন্যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সংসার মোল্লার ছেলে সাদ্দাম মোল্লার বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম অকুস্থল গম খেতে শিশু কন্যাটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর গুরুতর জখম শিশু কন্যাটিকে প্রায় সংজ্ঞাহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় থানায় নিয়ে যান। নাকাশীপাড়া থানার পুলিস গুরুতর জখম শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠালে সেখানে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য সুপারিশ করা হয়। ইতোমধ্যে দ্রুত এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সাদ্দাম মোল্লার খোঁজে গ্রাম তোলপাড় করে তাকে ধরে ফেলে। উত্তেজিত জনতা সাদ্দামকে মারধর করে । পরে গ্রামবাসীরাই অভিযুক্ত সাদ্দামকে নাকাশীপাড়া থানায় পুলিসের হাতে তুলে দেন। 

কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা শিশু কন্যাটির পরিবারের লোকজন ও উপস্থিত গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে, নাকাশীপাড়া থানার বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোলী গ্রামের এই শিশু কন্যা বাড়ির পাশের খোলা জায়গায় বসে খেলা করছিল। আচমকা গ্রামের পরিচিত তৃণমূলী নেতা সংসার মোল্লার ছেলে সাদ্দাম মোল্লা শিশুটির মুখ চেপে ধরে কিছুটা দূরে গম খেতের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর তার মুখ চেপে ধরা অবস্থায় তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়। শিশুটি ঘটনার আকস্মিকতায় ও গুরুতর জখম হয়ে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গম খেতের মধ্যেই পড়ে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কিছুক্ষণ শিশুটির দেখা না পেয়ে বাড়ির লোকজনেরা আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। এরও বেশ কিছুক্ষণ পর অত্যাচারিত শিশুটির খুড়তুতো ভাই নওয়াজ শেখ পাশের গম খেতের মধ্যে থেকে ভেসে আসা তার ছোট্ট বোনের ক্ষীণ স্বর শুনে ছুটে গিয়ে দেখে তার বোন খেতের মধ্যে পড়ে আছে। সে দৌড়ে গিয়ে খবর দেয় তার ঠাকুরদাকে। বাড়ির লোকজন গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে গুরুতর জখম ও অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নাকাশীপাড়া থানায় নিয়ে যান। থানা আধিকারিকের কাছে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন। নাকাশীপাড়া থানা কেস নং-৩১৯/১৩ তারিখ-২৭.০৩.১৩। ইতোমধ্যে এই খবর গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত সাদ্দামের বিরুদ্ধে উত্তেজিত গ্রামবাসী গোটা গ্রাম তোলপাড় করে তাকে ধরে ফেলে। গ্রামবাসীরা তাকে নাকাশীপাড়া থানার পুলিসের হাতে তুলে দেন। খবর পেয়ে পুলিসের সি আই শিশির কুমার পাল থানায় এসে ধর্ষিতা শিশু কন্যার কাছে ঘটনার বিবরণ শোনেন। তার সামনে শিশুটি অভিযুক্ত সাদ্দামকে শনাক্ত করে এবং তার উপর অত্যাচারের ঘটনার কথাও জানিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে এই ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নাকাশীপাড়া জোনাল কমিটির সম্পাদিকা সেলিনা বেগমসহ বেশ কয়েকজন নেত্রী ও স্থানীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ নাকাশীপাড়া থানায় ছুটে যান। তাঁরা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সাথে দেখা করে অপরাধীকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও মহিলা সমিতি রাজ্য সরকারকে অত্যাচারিত শিশুটির সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ ও পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। সন্ধ্যায় নির্যাতিত শিশু কন্যটিকে পুলিসের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সুপারিশ করেন। বুধবার রাতেই তাকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিন কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল শারীরিকভাবে অত্যাচারিত ওই শিশু কন্যাটি তার মায়ের কোলে বসে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। তার চোখেমুখে আতঙ্ক।

No comments:

Post a Comment