(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, March 27, 2013

দেউলিয়া সাইপ্রাস


দেউলিয়া সাইপ্রাস

পশ্চিমী দুনিয়ায় আর্থিক সঙ্কটের জেরে আর একটি দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা গভীর সঙ্কটে। তুরস্কের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের বুকে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস সঙ্কটের সর্বশেষ শিকার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য এই ছোট দেশটি তাদের ডুবতে বসা ব্যাঙ্কগুলিকে রক্ষা করার জন্য নয় মাস আগে ইউরো জোনের কর্তাদের কাছে দেউলিয়া হওয়া ‍‌ঠেকানোর জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু যে শর্তে ইউরোপ সাহায্য করতে রাজি তা মেনে নিলে সাইপ্রাসের মানুষ ও ব্যাঙ্কের আমানতকারীদের অনেক মূল্য দিতে হবে বলে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হচ্ছিল না। ইতোমধ্যে মূলধনের অভাবে ব্যাঙ্কগুলির নাভিশ্বাস উঠে গেছে। শেষপর্যন্ত গত ১৬ই মার্চ একটি উপায় বার করা হলেও সাইপ্রাসের সংসদে সেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। খাদে পড়া ব্যাঙ্কগুলিকে চালু রাখার জন্য যখন জরুরী প্রয়োজন ১৭০০ কোটি ইউরো তখন ইউরোপের দেশগুলি ১০০০ কোটি ইউরো (১৩০০ কোটি ডলার) ঋণ দিতে রাজি হয়। বাকি অর্থ সংস্কার প্রক্রিয়ায় বেসরকারীকরণ এবং ব্যাঙ্কে আমানতকারীদের ওপর কর বসিয়ে তোলা হবে। এইভাবে মানুষের ওপর সঙ্কটের বোঝা চাপানোয় সায় দেয়নি সংসদ। ফলে ফের আলোচনার পর এক লক্ষ ইউরোর কম আমানতকারীদের ছাড় দেবার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত সংসদ এটা মেনে নেবে কিনা এখনো পরিষ্কার নয়।

এর আগে গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেনের দেউলিয়া ব্যাঙ্ককে ‘বেল আউট’ করেছিল ইউরোপ। এবার তাদের মাথাব্যথার কারণ সাইপ্রাস। এটি একটি নেহাতই ছোট দেশ। লোকসংখ্যা ১০ লক্ষেরও কম। ইউরোজোনের মোট জি ডি পি-র মাত্র ০.২ শতাংশ সাইপ্রাসের। এতদ্‌সত্ত্বেও ইউরোপের কাছে সাইপ্রাসের গুরুত্ব অনেক কম। এখানে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অনেক শিথিল। ফলে বিদেশী আমানতকারীদের বিপুল টাকা আমানত হয় এখানকার ব্যাঙ্কে। বিশেষত গত ২০ বছর ধরে রাশিয়ার নব্য ধনীদের বিপুল হিসেব বহির্ভূত অর্থ জমা আছে এইসব ব্যাঙ্কে। ২০১১ সালে ব্যাঙ্কের মোট অর্থ সাইপ্রাসের জি ডি পি-র ৮০০ গুণ হয়ে যায়। এই বিপুল শক্তিশালী ব্যাঙ্ক সাইপ্রাসের অর্থনীতি ও রাজনীতির মুখ্য চালিকাশক্তি। এই ব্যাঙ্কগুলি গ্রিসের বিপুল বন্ড কিনে রেখেছে। গত বছর গ্রিসের বেল আউটের সময় সেই বন্ড থেকে বিরাট লোকসান হয়। তার ধাক্কা সামাল দিতে না পেরে তাদের ব্যবসা বন্ধ হবার জোগাড়। সাইপ্রাসের মতো আর্থিকভাবে ছোট একটি দেশের জন্য এত বিরাট অর্থ সাহায্য ইউরোপের দেবার কথা নয়। বিশেষ করে ইউরোপ নিজেরাই সঙ্কটে জরাজীর্ণ। আসলে ব্যাঙ্কে আমানতের মাধ্যমে সাইপ্রাসের অর্থনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব আছে। এখন যদি সঙ্কটে ইউরোপ সাইপ্রাসের পাশে না থাকে তাহলে তারা ইউরো জোন ত্যাগ করে রাশিয়ার সাহায্য চাইতে পারে। তাতে রাশিয়ার প্রভাব আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে গত বছর মোটা অঙ্কের অর্থ রাশিয়া সাহায্য করেছে। তাছাড়া সাইপ্রাসের সমুদ্রতলে সম্প্রতি আবিষ্কার হয় গ্যাসক্ষেত্র। রাশিয়া ঐ গ্যাসের বিনিময়ে আর্থিক সাহায্য করতে পারে। সঙ্গে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌঘাঁটি করার ব্যবস্থাও পাকা করে নিতে চায়। এটা ইউরোপ কোনো অবস্থাতেই ‍‌মেনে নিতে রাজি নয়। তাই অনেক ঝুঁকি নিয়েও তাদের সাইপ্রাসের পাশে থাকতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রপতি তাদের কিছুটা হলেও সুবিধা করে দিয়েছেন। পূর্বতন রাষ্ট্রপতি রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে দর কষাকষি করে দেশের জন্য বাড়‍‌তি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি একটু ইউরোপ ঘেঁষা। তাই দেউলিয়া মুক্তিতে সাইপ্রাসের মানুষকে অনেকটা বেশি যন্ত্রণা মেনে নিতে হচ্ছে।


No comments:

Post a Comment