(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, March 29, 2013

নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে দায়ী থাকবে রাজ্য সরকারই, বললেন বিমান বসু


নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে দায়ী 
থাকবে রাজ্য সরকারই, বললেন বিমান বসু

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৮শে মার্চ—রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য সরকারই। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম‌্যান ও সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসু। এদিন বামফ্রন্টের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচন করার দায়িত্ব রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। আমরা চাই, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় যা করা দরকার, তার সবরকম ব‌্যবস্থা নিক। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বও রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। 

এদিন বিকালে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে বামফ্রন্টের এই বৈঠকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির মধ্যে জেলাভিত্তিক ঐক্য আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিমান বসু এদিন বলেন, অধিকাংশ জেলাতেই সার্বিক ঐক্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাঁকুড়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতে ইতোমধ্যেই সার্বিক ঐক্য ঘোষণা করা হয়েছে। মালদহ, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়াসহ কয়েকটি জেলা দেরিতে আলোচনা শুরু করায় এখনো পুরোটা হয়নি। তবে সব জেলাতেই ভালোভাবেই আলোচনা এগোচ্ছে। বাকি সব জেলাতেই দু-একটি আসন ছাড়া প্রায় সার্বিক ঐক্য হয়ে গেছে। দু’-একদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ঐক্য হয়ে যাবে। বিমান বসু বলেন, বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি আশাবাদী, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন চূড়ান্ত হলেই সার্বিক ঐক্য হয়ে যাবে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানারকম রঙ চড়িয়ে গল্প লেখা হলেও আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্ট সমস্ত আসনেই লড়াই করবে। সেই অনুযায়ীই প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্ট।

নির্বাচনের দিন ঘোষণা ও নিরাপত্তাবাহিনী নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এদিন বামফ্রন্টের বৈঠকে তার তীব্র নিন্দা করা হয়। বিমান বসু বলেন, সরকার ও কমিশনের মধ্যে যে বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে আমরা অনভিপ্রেত বলে মনে করি। এরকম অবস্থা না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় ছিল। তিনি বলেন, এবারে যে নির্বাচন হতে চলেছে, তা অষ্টম পঞ্চায়েত সাধারণ নির্বাচন। এর আগে আরো সাতবার এরকম নির্বাচন হয়েছে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে। বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো কুৎসা করা হলেও কখনো এরকম বিরোধের পরিবেশ হয়নি। বর্তমান সরকার তো প্রথমবার একটা সাধারণ নির্বাচন করতেই গলদ্‌ঘর্ম হয়ে যাচ্ছে!

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিমান বসু বলেন, ২০০৮সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছিল ৩দফায়। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল ৩দফায়। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ৫দফায়। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে আগের থেকে উন্নত হয়েছে এমনটা নয়। কিছু এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এমনকি খুনও হচ্ছে। মাঠপুকুর, বেহালা প্রভৃতি এলাকায় যেরকম ঘটনা ঘটছে, তা আগে কখনো হয়নি। সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বামফ্রন্ট কর্মীদের। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করার জন্য উপযুক্ত ব‌্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন করার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কিছু সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ৭৩তম সংবিধান সংশোধনীর মধ্যে এই অধিকারকে আরো পোক্ত করা হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য সরকারই। 

বিমান বসু এদিন জানান, আগামী সোমবার পরবর্তী বামফ্রন্টের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ইশ্‌তেহার নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে ইশ্‌তেহার প্রকাশ করা হবে।



No comments:

Post a Comment