(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, March 19, 2013

ELECTION COMMISSION, WB VS MAMATA'S GOVERNMENTউত্তেজনায় সত্যভাষণ


উত্তেজনায় সত্যভাষণ

বিনয় কোঙার

তৃণমূলের মালিকান হতে চুনোপুঁটি পর্যন্ত সবাই রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার ও মানবাধিকার কমিশনের উপর খড়্গহস্ত। তাঁরা বামফ্রন্ট আমলে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলে নাকি বামফ্রন্টের অনুগত। বামফ্রন্ট আমলে তো অনেকেই নিযুক্ত ছিলেন। মাননীয় দেবেন বিশ্বাস, মণীশ গুপ্ত, রচপাল সিং, এইচ সফি, অবনী জোয়ারদার, সুলতান সিং, ডি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অনেক আই পি এস, আই এ এস অফিসারই বামফ্রন্টের আমলে কাজ করেছেন। সম্মানের সাথে কাজ করেছেন নতজানু হতে হয়নি। উদারনীতির বিশ্বায়নে এখন বুদ্ধিবাদীদের বড় অংশ বুদ্ধিব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন। বুদ্ধি যখন বেচতেই হবে তখন যেখানে দাম বেশি দেবে সেখানে বেচাই ভালো। মান-সম্মান, আত্মমর্যাদা—ওসব ফালতু। একজন তো বামফ্রন্টের আমলে ভূমিসংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করে ‘তেভাগা থেকে অপারেশন বর্গা’ পুস্তিকাই লিখে ফেলেছিলেন, অন্য রাজ্যে ভূমিসংস্কার না হওয়ার কারণ হিসাবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করেছিলেন। এখন বলছেন পশ্চিম বাংলায় ভূমিসংস্কারের নামে ভূমি-ডাকাতি হয়েছে। উদারনীতির জয়। তবে বিবেক বিক্রিত নয় এখনও কিছু বুদ্ধিবাদী আছেন। শুধু ওঁরা কেন, পশ্চিমবাংলায় আজ যাঁরা এ এস আই, এস আই, ডি এস পি, এস ডি ও, বিডিও—সবাই তো বামফ্রন্টের আমলে নিযুক্ত। শিক্ষিত ভদ্রসন্তান। আজ তারা পুতিগন্ধময় নর্দমায় নিক্ষিপ্ত। পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলী লোচ্চার দল বামপন্থী কর্মীদের আক্রমণ করছে এবং আক্রান্তরা গ্রেপ্তার হচ্ছে জামিনঅযোগ্য ধারায়, যে মামলার বিচার হয়ে গেছে সেই মামলা পুনরায় চালু করে বামপন্থী নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, চার্জশিট পেশ করার পর আবারও নতুন কর্মীকে আসামী করা হচ্ছে, হলদিয়ায় বামপন্থী পরিচালিত পৌরসভাকে দখল করার জন্য বামপন্থী কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বামপন্থীদের সভার অনুমতি দিয়ে সভার প্রাক্‌মুহূর্তে বাতিল করা হচ্ছে, খুনের বা ধর্ষণের দায়ে তৃণমূলী আসামীদের জামিনযোগ্য ধারা দেওয়া হচ্ছে। থানায় ডেপুটেশন দিলে অন্তরালে বলা হচ্ছে—‘উপরের চাপ আছে’। পু‍‌লিস কাজ করবে আই পি সি, সি আর পি সি মেনে আইনমাফিক। কিসের চাপ? উপরের কোন মৌখিক চাপ থাকলে কেন লিখিতভাবে বা এস এম এস মারফত জানাতে বলছেন না? ভয়? কিসের ভয়? চাকরি যাবে? অত সোজা নয়। আইন মেনে কাজ করলে চাকরি খাওয়া যায় না, বদলি করা যায়, বসিয়ে রাখা যায়। শ্রীমতি দময়ন্তী সেন তো পারলেন, পচনন্দা সাহেব অনেক অন্যায় হুকুম তামিল করেছেন, কিন্তু নিজের অধস্তন সহকর্মী যখন নিহত হলেন, তখন তাঁর বিবেক বিদ্রোহ করলো। স্বৈরাচারে অবশ্য উপরি আয়টা ভালো হয়। কিন্তু নতজানু হয়ে নিজেদের পশুত্বের স্তরে নামিয়ে এনে মানুষের ঘৃণা কুড়াবেন না আইন মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন—সেটা তাঁদেরই ঠিক করতে হবে।

তৃণমূল মালিকান ২০১২ সালের নভেম্বরেই পঞ্চায়েত নির্বাচন করার জন্য কমিশনকে চাপ দিয়ে আসছেন। মার্কিন অর্থপুষ্ট ও চিটফান্ডপুষ্ট প্রচারমাধ্যম যে দেবী-প্রতিমা গড়ে তুলেছে তার মাটি খসে বাঁশ খড় বেরিয়ে পড়ার আগেই ভোটটা সারতে চাইছিলেন তৃণমূল কর্তারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নতজানু হননি। নতুন ভোটার যুক্ত করা, নির্বাচন ক্ষেত্র ও সংরক্ষণ ঠিক করার সময়টা তিনি আদায় করেছেন। সংরক্ষণে অনেক ভুল বেরিয়েছে। তফসিলী জাতি-উপজাতি হীন গ্রামের আসনকে তাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। সে সব সংশোধন করতে সময় চাই। পশ্চিমবাংলার পরিস্থিতি তিনি জানেন। শুভেন্দু অধিকারী তাদের যুববাহিনীকে ফরমান দিয়েছেন যে, ‘তৃণমূল’ ছাড়া অন্য প্রার্থী যেন না থাকে। সব বুঝেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত করেছেন যে, তিন পর্যায়ে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী থাকতে হবে। গতবারেও এইরকম ছিলো। তৃণমূল সাংসদ ও মুখপাত্র (মালিকানের মর্জিমত মুখপাত্র প্রায়ই বদল হয়) মুকুল রায় ক্ষেপে গেছেন এবং উত্তেজনার বশে স্বভাববিরুদ্ধ একটা সত্য কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেছেন যে—তিন পর্যায়ের ভোট, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর কথা বলে নির্বাচন কমিশন সি পি আই (এম)-র হার বাঁচানোর জন্য ভোট পিছানোর চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ তিনি স্বীকার করলেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর হুমকি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মত গণতান্ত্রিক পথে ভোট হলে বামফ্রন্ট জিততে পারে। অসতর্কভাবে সত্য কথনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment