(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, March 19, 2013

MAHESHTALA SLUMS: প্রশ্নের শাস্তি


EDITORIAL

প্রশ্নের শাস্তি

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রীরা কারোর কোনও প্রশ্ন বরদাস্ত করতে পারেন না। এমনকি শাসকদ‍‌লের কোনো কর্মীও যদি প্রকাশ্যে তার নেতাদের অস্বস্তিকর প্রশ্ন করে ফেলেন তাহলে তাকে পুলিসের হাতে আটক হতে হয়। মহেশতলায় পুড়িয়ে দেওয়া বস্তিতে এক যুবক পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী এলেন না কেন? এই প্রশ্ন করার অপরাধে পুলিস গ্রেপ্তার করে আগুনে বাস্তুহারা প্রতাপ নস্করকে। কী করে একজন বস্তিবাসী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কী করা উচিত তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন। এজন্য তো ঐ যুবককে শাস্তি পেতে হবেই। যেমন শাস্তি ‍ পেতে হয়েছিল বেলপাহাড়ির শিলাদিত্য চৌধুরীকে। মুখ্যমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে শিলাদিত্য সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন সারের দাম বাড়ছে। কী করছে রাজ্য সরকার? এই প্রশ্ন করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় শিলাদিত্যকে। মাওবাদী আখ্যা পেয়ে শিলাদিত্যকে বেশকিছু দিন জেলে কাটাতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার শাস্তি যে কারাবাস তা রাজ্যবাসী দেখছে এখনকার তৃণমূল আমলে। মহেশতলায় পরিকল্পিতভাবে ৭০০ ঝুপড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তৃণমূলকে। মুখ্যমন্ত্রী কেন মহেশতলার ঘটনাকে ‘ছোট’ বললেন? কেন ঐ চক্রান্তের নায়ক মহেশতলার পৌরপ্রধানকে এখনও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এইসব প্রশ্ন একের পর এক উঠেছে পৌরমন্ত্রী ববি হাকিমকে ঘিরে। শেষ পর্যন্ত দিদি কেন এলেন না প্রশ্ন করতেই আটক হতে হলো ঐ বস্তিবাসী যুবককে। শুধ সাধারণ মানুষই নয় কোনও সাংবাদিকের প্রশ্ন পছন্দ না হলেই মুখ্যমন্ত্রী তাকে জবাব না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করেন, আপনি কোন্‌ কাগজের বা চ্যানেলের। তার পরেই তিনি মন্তব্য করেন, আপনাকে কি সি পি এম পাঠিয়েছে? 

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলায় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তানিয়া ভরদ্বাজকে ‘মাওবাদী’ বলে আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্য সহ্য করতে না পেরে উত্তেজিত মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান। তৃণমূলনেত্রী তথা শাসকদলের এই অসহিষ্ণুতা আমরা দেখেছি ব্যঙ্গচিত্রের ঘটনায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র রেলমন্ত্রীকে নিয়ে একটি আঁকা কার্টুন ই-মেলে পাঠিয়েছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবদের কাছে। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র সোনার কেল্লার সিনেমা ভিত্তি করে ঐ কার্টুনে দেখানো হয়েছিল প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভ্যানিশ’ হওয়া। এই কার্টুন ই-মেলে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন অধ্যাপক মহাপাত্র। ‘ভ্যানিশ’ শব্দটি ধরে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঐ অধ্যাপককে পুলিসের অকারণ হয়রানির শিকার হতে হয়। পরবর্তীকালে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন রাজ্য সরকারের এই কাজের কঠোর সমালোচনা করে। অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। অম্বিকেশ মহাপাত্র থেকে প্রতাপ নস্কর। অসহিষ্ণুতার সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে। বিশ মাস বয়সী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে এখন রাজ্যের মানুষের প্রশ্ন অনেক। যে পরিসংখ্যানই দেওয়া হোক না কেন, রাজ্যে কি বেকাররা চাকরি পাচ্ছে? এরাজ্যে কি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে? এই রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে কৃষক খেতমজুর আত্মহত্যার মিছিল কেন? কারা দায়ী? বন্ধ চা বাগানে অপুষ্টিতে ভোগা শ্রমিক অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করছে। কী করছে রাজ্য সরকার? শ্লীলতাহানি ধর্ষণের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে একের পর এক। কী করছে পু‍‌লিস প্রশাসন? বিরোধীরা খুন হচ্ছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের কবলে রাজ্যের অনেকগুলি অঞ্চল। কেন পুলিস ব্যবস্থা নিচ্ছে না দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে? রাজ্যের মানুষের মনে এরকম অনেক প্রশ্ন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই প্রশ্ন তুলতে পারছে না। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যবাসীর প্রতি স্পষ্ট বার্তা হলো, প্রশ্ন করলে শাস্তি পেতে হবে।

No comments:

Post a Comment